নতুন ব্লগের ঠিকানা

পাঠকের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, এই ব্লগে কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি তৈরি হয়েছে, যা সংশোধন এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। তাই এখানে নতুন কিছুই পোস্ট করা হচ্ছে না। 

 অনাকাঙ্ক্ষিত এই অবস্থার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। নতুন ব্লগের ঠিকানা: www.sammoraian.blogspot.com

রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রসঙ্গে...

উপল আদিত্য ঐক্য শিল্পের প্রয়োজনীয়তা টা কোথায়? নিশ্চয় এর সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে । একটা কথা হয়তো বলা যায় General Discussion এর মাধ্যমে কিন্তু কোন কিছু না বলেই ভাবের প্রকাশ একমাত্র শিল্প'র দ্বারাই সম্ভব। মানুষের মুক্তি, অসহায়ত্ব কিংবা আনন্দ-বেদনা যখন কবিতা,গানে কিংবা নাচে ফুটে ওঠে, তা তখন General Discussion লেভেলে থাকে না, তা তার অতীত হয়ে যায়। এখানেই শিল্পের প্রয়োজনীয়তা, এখানেই এর প্রকাশ। অর্থাৎ ভাবকে বা এর রূপকে প্রকাশ করাই শিল্পের প্রধান কাজ। আচ্ছা, রূপকে সুব্যক্ত করাই যদি শিল্পের প্রধান কাজ হয়ে থাকে; তবে বর্ষার গানে কেন আমি বর্ষার বেগে ছুটবো না ? কেন আমি ধীরে ধীরে বইবো উতল হাওয়ার মত ?? এসময়, একটি কথা বারবার মনে পড়ছে, রবীন্দ্রনাথের আমলে রাগ সঙ্গীতের দাপটে অন্যান্য সঙ্গীত চুপছে গিয়েছিল। তখন গান হত কম, রাগরাগিণী নিয়ে টানাটানি হত বেশি। ওস্তাদের ম্যাজিক দেখবার ভয়ে স্বয়ং শরৎচন্দ্র পর্যন্ত বলেছিলো, “তোমার ওস্তাদ থামবে তো?” ( ঠিক কাকে বলেছিল, তা এই মুহুর্তে মনে করতে পারছি না) আর, এই সময়ে রবীন্দ্রনাথ / রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে গায়কীর যে আন্দোলন অন্যান্য সঙ্গীত-প্রেমীদের , তাও নিশ্চয়ই অপ্রাসঙ্গিক নয়। বেশ বলতে ইচ্ছে হচ্ছে, রবীন্দ্রনাথ / তাঁর সঙ্গীতকে আমরা ঠিক কোন কাঠামোতে ফেলে তা তে সামাজিক পরিবর্তনের সিল মেরে দিচ্ছি , তা মোটেও clear নয় আমার কাছে। তা কি আদৌ কাঠামোতে ফেলবার যোগ্য ?? অধিকাংশ এদেশীয় শিল্পীরা যেভাবে তাঁর গান পরিবেশন করছেন, না সেখানে আছে আনন্দ, না আছে শক্তি । “গায়কের চিত্ত হতে গানের আনন্দই বিচিত্র তানের মধ্যে প্রসারিত হইতেছে। যেখানে সেই আনন্দ দুর্বল, শক্তিও সেখানে ক্ষীণ ।” এখন আসি শুদ্ধ ভাবে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইবার পক্ষের কথায় – অধিকাংশরাই বলেন একটা কথা যে , অন্য ভাবে গাইতে গাইতে তাঁর গানের মূল সুরে পরিবর্তন চলে আসতে পারে, যার ফলাফল খারাপ। এটি ছাড়া আর কোন যুক্তি খাটে না। এই মুহুর্তে হয়তো একমাত্র তিনিই বলতে পারতেন কি সঠিক। তবুও তাঁকে পড়বার পরে আমার মনে হয়েছে যে, হয়তো আজকের যুগের গায়িকা জয়তী চক্রবর্তীর গাওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনালে (যিনি ভাবকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে গান করেন, স্বরলিপির সাথে আমি তাঁর বেশ কিছু জায়গায় যোগ কমই দেখেছি) কিংবা সুমন চট্টোপাধ্যায়ের 'ভালোবেসে সখী' গানটি শোনালে হয়তো রবীন্দ্রনাথ তাঁদের তাই গ্রহণ করতেন; যদিও মূল সুরে অনেক ত্রুটিবিচ্যুতি আছে। ভাবকে প্রাধান্য দিয়ে গান করলে, কেবল সেই সঙ্গীতেই বাজে ঝংকার; বস্তু-বিচারের বাঁধন - চিন্তার বাঁধন সঙ্গীত কে বাঁধতে পারে না। কথাটি রবীন্দ্রনাথের। আর, স্বরবিতান বস্তু-বিচারের বাঁধন ছাড়া আর কি হতে পারে ??? তাই, এই স্বরবিতান নিয়ে এত টানাটানি করবার তো কোনই প্রয়োজন বোধ করছিনা। আমি বারবার বলছি, শিল্পের মূল হচ্ছে “অনুভুতি”, কাঠামো ঠিক থাক আর নাই থাক। সঠিক অনুভুতি প্রকাশ পেলে আর তেমন কোন ক্ষতি নেই। গানের রূপ ও ভাব যদি দুই প্রকাশমান হয় তবে তা বিশুদ্ধ ভাবে গাওয়া হল কি না তা খুব একটা আবশ্যিক নয়। তাই আজ প্রয়োজন সর্বত্র তাঁর গান গাওয়া-শুধু হারমোনিয়াম আর তবলা দিয়ে নয়, হাতের কাছে পাওয়া সব Instrument দিয়ে। এখন প্রশ্ন, তাহলে কি ব্যান্ড আকারে বা Western Music এর আদলে রবীন্দ্রসঙ্গীত Present করতে বলছি বা রূপ দিতে বলছি ? ? ? একদমই না, কারণ, আমাদের সংস্কৃতি আর পশ্চিমা সংস্কৃতির মধ্যে মূল পার্থক্য হচ্ছে “ভাববাদ” কে ঘিরে। মূল দ্বন্দ্বের বিষয় এটি হতে পারে । আমি বলছি না যে Western Instrument Add করা যাবে না, কিন্তু সুচারু রূপেই কেবল তা গ্রহন/ব্যবহার করতে হবে। গানের ভাব’খানি যেন ব্যান্ডের উন্মাদ শব্দে অথবা রাগরাগিণীর রোষানলে পড়ে মৃত্যুবরণ না করে, এই কথাটি শুধু রবীন্দ্রসঙ্গীত-ই নয়, আমাদের সকল সঙ্গীতের জন্যে উপযুক্ত। মোদ্দা কথা, ঠিক Fusion বা নিরীক্ষা ধর্মী না, কিন্তু নতুনত্তের সাথে। সে আমলে রবীন্দ্রনাথ প্রচণ্ড দাপটে থাকা রাগসঙ্গীত নিয়ে লিখেছিলেন, “ যে রাগরাগিণীর হস্তে ভাবটিকে সমর্পন করিয়া দেওয়া হয়েছিলো, সে রাগরাগিণী বিশ্বাস-ঘাতকতা পূর্বক ভাবটিকে হত্যা করিয়া স্বয়ং সিংহাসন দখল করিয়াছে। আজ গান শুনিলেই সকলে দেখিতে চায় জয়জয়ন্তি,বেহাগ। আরে, মহাশয়, আমরা এমন কি ঋণে বদ্ধ জয়জয়ন্তির কাছে যে তাহার নিকট অন্ধ দাসত্ববৃত্তি করিতে হইবে? যদি মধ্যমের জায়গায় পঞ্চম দিলে ভালো শোনায় , তাহাতে বর্ননীয় ভাবের সহায়তা হয় তবে আমি তাই বহাল রাখিব তাতে জয়জয়ন্তি রাগ মরুক আর বাঁচুক। আমি জয়জয়ন্তির কাছে এমন কী ঘুষ খাইয়াছি যে এমন প্রাণপণ করিব ? ” এখন কিছু word change করে দেখি, যেমন “রাগরাগিণীর জায়গায় স্বরবিতান”, “সকলের দেখবার তালিকায় মুলসুর(স্বরবিতানুসারে)” বাকী গুলি প্রায় ঠিক আছে। দেখুন তো কি হয় ? হয়তো বিস্ময় ভরে তাকাতেও পারেন, হ্যাঁ তো, কোন Contradiction তো দেখছি না। সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়িয়ে বলবেন, না না, তা ঠিক না। কারন ? কারন, তিনি রবীন্দ্রনাথ !!!??? ভুল আমাদেরই যে আমরা তাঁকে সেই পূজার জায়গাটি তে বসিয়েছি, যদিও তিনি আর যাই থাকুক দেবতা ছিলেন না। পূজার ঘরে তো সকলে যাবার অধিকার রাখে না বা অনেকে সেচ্ছায় যান না। আর, তখনই শুরু হয় অন্ধ ধার্মিকের শাস্ত্রকথা আর মুক্তির আকাশ হয় রুদ্ধ ।

গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা


পাঠক, বেশ কিছুদিন ধরে আমার রাফখাতা ব্লগে কবিতা পোস্ট করতে পারছি না। গদ্যও না। প্যারাগুলো প্যারা থাকছে না; কিন্তু কবিতার ক্ষেত্রে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বোধ করি, গদ্যের ক্ষেত্রও। তাই এই সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত www.sammo.blog.com এই ঠিকানা ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করছি। নতুন ব্লগে প্রবেশ করতে এখানে ক্লিক করুন।

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন, সমাবেশ ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৩/০৬/২০১২) বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ফরম পুরণের বর্ধিত ফি, পরিবহন ও যাতায়ত ফি কমানেরা দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করে। সকালে কলেজ চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন শেষে সমাবশে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম সংসদের সভাপতি মোকলেছুর রহমান, নিরঞ্জন চন্দ্র রায়, শফিউল ইসলাম, এসএম আল আমিন প্রমূখ। পরে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি দেয়া হয়।

ছাত্র ইউনিয়ন-এর ৬০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ঘোষণা

২৬ এপ্রিল ২০১২ ছাত্র ইউনিয়ন’র ৬০তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উপলক্ষে আয়োজিত আজকের এ উদ্বোধনী সমাবেশ থেকে দেশে ও প্রবাসে অবস্থানরত ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীসহ নীল পতাকার ৬ দশকের সুবৃহৎ পরিবারের সকল সদস্যকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ছাত্র ইউনিয়ন-এর চেতনা ও আদর্শকে যাঁরা উর্ধ্বে তুলে ধরেছেন সে সব বীর শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। একই সাথে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, টংক আন্দোলন, সাঁওতাল বিদ্রোহ, সিপাহী বিদ্রোহ, নানকার বিদ্রোহ, হাজং বিদ্রোহ, তেভাগা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ এ অঞ্চলের এবং সারা পৃথিবীতে মানবমুক্তির সংগ্রামে যারা নিজেদের উৎসর্গ করেছেন, সেসব মৃত্যুঞ্জয়ী লাখো শহীদদেরকে। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা যখন চুড়ান্তভাবে ধ্বসে পড়েছে, তখন শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ অগ্রণী সংগঠন তার ৬০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। এদেশের শিক্ষা আজ শুধুমাত্র মুষ্টিমেয় কিছু সুবিধাভোগী বিত্তবান শ্রেণির সন্তানদের জন্য সীমাবদ্ধ হয়ে আসছে। কাগজ কলমসহ শিক্ষা উপকরণের ক্রমাগত দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষক-শ্রমিকের সন্তানরা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর বিশাল অংশ শিক্ষা কাঠামোর বাইরে থাকায় রাষ্ট্র হিসেবে আজও বাংলাদেশ তার মেধা সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার করতে পারছে না। রয়েছে স্কুল সঙ্কট, যেখানে স্কুল আছে সেখানে ক্লাসরুম সঙ্কট, শিক্ষকের অভাব, লাইব্রেরির অভাব, বিজ্ঞানাগারের অভাবে শিক্ষাব্যবস্থায় সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। শিক্ষার মান ও শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্যের পাশাপাশি শিক্ষা সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে তাও জরাজীর্ণ। ঘুণেধারা এ শিক্ষা কাঠামো সেজন্যই জাতির মানসিক গঠনে ভূমিকা রাখতে পারছে না, উপরন্তু বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়, অস্থিরতা। বহুবছর পর জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণীত হলেও তাতে জনগণের আশা আকাঙ্খার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি; বরং শিক্ষার বাণিজ্যিকীরণকে উৎসাহিত করা হয়েছে। আজকের এ সমাবেশ দাবি তুলছে, অবিলম্বে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এর অবকাঠামো পুনঃনির্মাণসহ শিক্ষা উপকরণের দাম কমাতে হবে, শিক্ষাখাতে জাতীয় আয়ের নুন্যতম ৮ ভাগ বরাদ্দ দিতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে শিক্ষাকে জাতীয়করণ করতে হবে। বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক ধারণার ওপর শিক্ষা না দাঁড়িয়ে সাম্রাজ্যবাদী বিদেশি সংস্থার ক্রমাগত ষড়যন্ত্রে শিক্ষা বাণিজ্যিকরূপ ধারণ করছে। বহুধাবিভক্ত শিক্ষাকে বেসরকারিকরণের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমাগ্রিকভাবে বাণিজ্যনির্ভর কেনা-বেচার পণ্যে পরিণত করার চক্রান্ত চলছে। ফলে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাই আজ ধ্বংসের মুখে। কোচিং ব্যবসা, বেতন বৃদ্ধি, নানানখাতে নতুন নতুন ফি নির্ধারণের মাধ্যমে একটি অসাধু চক্র শিক্ষাকে ব্যবসায় পরিণত করছে। ইউজিসির কৌশলপত্র বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে। এর মাধ্যমে সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থা লুটপাটকারী শ্রেণির আরো বিত্তবান হয়ে ওঠার নিছক একটি মাধ্যমে পরিণত হবে। প্রায় ক্ষয়ে যাওয়া জাতীয় মেরুদণ্ড একেবারেই নিঃশেষ হবে। পাশাপাশি শিক্ষাকে সাম্প্রদায়িকীরণের অপচেষ্টাও বিদ্যবান। এ ষড়যন্ত্র, এ চক্রান্ত যে কোন মূল্যে রুখে দাঁড়াতে হবে। তাই আজকের এ সমাবেশ থেকে জোর গলায় দাবি তুলছি শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও সাম্প্রদায়িকীকরণ নিষিদ্ধ করতে হবে। একই ধারার গণমুখী বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। ইতিহাস বলে, এদেশের অগ্রযাত্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ছাত্রসমাজের রয়েছে গৌরদীপ্ত অবদান। কিন্তু সমাজ বদলের গতিশীল নেতৃত্ব বিকাশে শিক্ষাঙ্গনে গণতন্ত্র চর্চার দ্বার রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। নির্বাচিত ছাত্র সংসদের কার্যক্রম দশকের পর দশক ধরে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়া ছাত্র সমাজের সমস্যার যৌক্তিক কোন সমাধান সম্ভব নয়। স্বাধীনতার ৪০ বছর পর রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের যাত্রা পশ্চাদগামী। সমাজে ক্রমাগত সমস্যা, সঙ্কট, অবক্ষয়, অধোগতির ধারা বেড়ে চলেছে। সাম্প্রদায়িক, সাম্রাজ্যবাদ, লুটপাটতন্ত্রের আক্রমণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আজ ভূলণ্ঠিত। আত্মকেন্দ্রীকতা, প্রদর্শনবাদ, ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি, অপসংস্কৃতি, ভোগবাদ ইত্যাদি সুস্থ মানবিক বোধ ও উন্নত সাংস্কৃতিক মননের বিকাশকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এ অবস্থার অবসান জরুরী। নাগরিক নিরাপত্তায় ঔদাসীন্য, নতজানু পররাষ্ট্রনীতি, সাংস্কৃতিক অবনমন, সর্বগ্রাসী ব্যবসায়িক মনোবৃত্তিতে দেশ আজ ভয়াবহ সঙ্কটের সম্মুখীন। ৭২’র সংবিধানের মূলভিত্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি, জাতীয় সম্পদের উপর আত্মনিয়ন্ত্রণ, সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার মধ্য দিয়ে আমাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারায় এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ঘুরে দাঁড়ানোর এটাই উপযুক্ত সময়। ছাত্র ইউনিয়নের এই সমাবেশ থেকে ছাত্রসমাজের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা ছাত্রসমস্যাভিত্তিক সকল আন্দোলনে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে ছাত্র আন্দোলনকে অগ্রসর করছি। শিক্ষা ধ্বংসের যে কোন ষড়যন্ত্র সমস্ত শক্তি দিয়ে রুখে দেব। শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও সাম্প্রদায়িকীকরণের চক্রান্ত প্রতিহত করবো। ১. সর্বজনীন, গণমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক, একই ধারার সেক্যুলার শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতীয় আয়ের ৮ ভাগ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ করতে হবে। পর্যায়ক্রমে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করতে হবে। ২. ৭২’র সংবিধানের মূলভিত্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। যুদ্ধপরাধীদের বিচার ও সম্প্রদায়িক রাজনীতি আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে। আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারায় রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। ৩. জাতীয় সম্পদের উপর আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে। ৪. জনগণের মুক্তি নিশ্চিত করতে দ্বি-দলীয় ধারার বিপরীতে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তি গড়ে তুলতে হবে। সংগঠনের ৬ দশকে গড়ে উঠেছে আমাদের এক বিশাল পরিবার। এই পরিবারের সদস্যরা ঐক্য-শিক্ষা-শান্তি-প্রগতির মূলমন্ত্রে দীক্ষিত। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক-সমাজতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের শপথে উদ্দীপ্ত, বিভিন্ন সময়কালে দীক্ষিত হওয়া ছাত্র ইউনিয়ন পরিবারে লক্ষ-লক্ষ সদস্যবৃন্দ আসুন আজ আমরা দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনে নিয়ামকের ভূমিকা পালন করি। মানবমুক্তির প্রত্যয়ে আসুন আমরা দৃঢ় পদক্ষেপে অগ্রসর হই। শহীদদের স্বপ্নসাধ বাস্তবায়নে ব্রতী হই। শহীদদের স্বপ্নসাধ বাস্তবায়নে আমরা আমাদের সংগ্রামকে অব্যাহত রাখব। শহীদদের স্বপ্নসাধ বাস্তবায়নে আমরা আমাদের সংগ্রামকে অব্যাহত রাখব। শহীদদের স্বপ্নসাধ বাস্তবায়নে আমরা আমাদের সংগ্রামকে অব্যাহত রাখব। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জিন্দাবাদ। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর পক্ষে- এস এম শুভ সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সদস্যসচিব, ৬০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটি