ডায়েরি থেকে... ০৯

বাঙলাদেশের বর্তমান শিক্ষকদের অবস্থা বোধ হয় খুবই করুণ। তাদের অবস্থা এতোটা খা... রা... প...; দেখে আমারই কষ্ট হয়। আমার এখনো বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, জেএমবি'র মতো একটা সংগঠনের প্রধান বাঙলাদেশের প্রধান একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করাতেন! (আশ্চর্য আর কাকে বলে!)

এদেশে উচু মানের জ্ঞাণী বের না হবার পেছনে প্রধান অবদান আমাদের অশিক্ষিত শিক্ষকদের। এনারা বড় বৃক্ষ তৈরী হতে দ্যান না! কোন বৃক্ষ যখনই সম্ভাবনাময় হয়ে ওঠে, বেড়ে উঠতে ধরে, আমাদের অশিক্ষিত শিক্ষকেরা তখনই ঐ বৃক্ষের গোড়ায় কেটে দ্যান।

বাঙলাদেশের উন্নতি করতে হলে এদেশের শিক্ষার মান প্রথমে বাড়াতে হবে। আর শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য শিক্ষকের মান বাড়াতে হবে। এদেশে শিক্ষাজীবন শেষ করে একজন ছাত্র কেরাণী হবার মানসিকতা অর্জন করে বাড়ি ফেরে, এনজিওকর্মী হবার মানসিকতা অর্জন করে। তার শিক্ষাজীবনে অর্জিত ঝুলি খুললে পাওয়া যায় কম্পিউটারে লেখা অজস্র কাগজ। যাকে ইংরেজীতে বলে সার্টিফিকেট। এগুলোর প্রত্যেকটিতে ছোট-বড়, লাল-নীল, রঙিন নানা হরফে লেখা থাকে "চাকরী চাই"।

শিক্ষাজীবনে প্রত্যেকেই চায় ডাক্তার হতে, ইঞ্জিনিয়ার হতে; অবশ্য ইদানীং অনেকে শিক্ষকও হতে চায়, কেননা বর্তমানে শিক্ষকতার বাজারও বেশ চড়া। শিক্ষাজীবনে এদের বাবা-মা এদের পেছনে যে টাকা ব্যায় (আসলে হবে বিনিয়োগ। বাঙলাদেশী অভিভাবকগণ সন্তানের মধ্যে টাকা বিনিয়োগ করেন) করেছে, এদের প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্যই হল ঐ টাকার দশগুন তুলে আনা। কিন্তু ঐ শিক্ষার্থীরা কখনোই চিন্তা করেন না, এনাদের পড়াশুনার ৯৮ ভাগ খরচই বহন করেছে এদেশের আপামর জনগন। আর বাবা-মা বহন করেছে বাকী ২ ভাগ। অথচ লজ্জার বিষয়, শিক্ষাজীবন শেষে এরা সেই জনগনের পকেট কাটারই ধান্দা করে বেড়ায়!

ইস্কুল জীবনে প্রায় প্রত্যেকটা শ্রেণিতেই একটা রচনা আমরা অজস্রবার পড়ে থাকি, “আমার জীবনের লক্ষ্য”। প্রত্যেকেই জীবনের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেয় ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার-ব্যারিস্টার, বর্তমানে কদাচিত শিক্ষক। কিন্তু আজ অব্দি আমি কাউকে বলতে শুনিনি, আমার জীবনের লকট্ষ্য মানুষ হওয়া; আমি মানুষ হতে চাই।

কেননা, এই শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের ডাক্তার হতে শেখায়, ইঞ্জিনিয়ার হতে শেখায়, ব্যারিস্টার হতে শেখায়, শিক্ষক হতে শেখায়, কোটিপতি হতে শেখায়; কিন্তু মানুষ হতে শেখায় না!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন