আজও জোনাকপোকা জ্বলছে খড়ের ঘরে


রাশেদুন্নবী সবুজ

‘ফিরছে সবাই, ধারাজলে সুখী খড়কুটো, ফিরছে সবাই।’

শুধু নির্ভয়ে সত্যউচ্চারণকারী এক সংখ্যালঘু ফেরে নাই। ফিরবে না আর কখনওই। তবু ফিরে ফিরে আসে ১১ আগস্ট। মিউনিখ রহস্য। আমরা কি এই মৃত্যু চেয়েছিলাম। না; তা চাইনি। তবে মুক্তচিন্তার, মুক্তবুদ্ধির স্পষ্টভাষী প্রথাবিরোধীর মৃত্যু চাইতে হয় না। মৃত্যুই ঘুরে ফিরে চলে সাথে সাথে।

ধ্যানে-জ্ঞানে, মননে-প্রজ্ঞায় ভাষাবিজ্ঞানী হুমায়ুন আজাদ তাই মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছে বার বার। তাঁর সাহস ও লেখা মানুষকে আলো দেখাত, স্বপ্ন দেখাত; দেশ, ভাষা ও বাঙালিত্বকে ভালোবাসার কথা বলত। আর এসব কারণেই ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্র ক্ষতবিক্ষত করেছিল আজাদের মুখম-লকে, যা স্বাধীন একটি দেশের মুখম-ল হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে গোটা বিশ্বে।

হামলাকারী, মুরতাদ ঘোষণাকারীকে সে সময়ের সরকার যে প্রশ্রয় দিয়েছিলো আজ তা প্রমাণিত তাদের কথা থেকেই। হামলার পরের নাটক সবার জানা। জামাতকে বাঁচানোর জন্য তো বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ব্যরিস্টার নাজমুল হুদা বলেছিলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের অখ-তার পক্ষে দাঁড়িয়ে জামাত কোনো আপরাধ করেনি। হুমায়ুন আজাদ ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ এ এসব বিষয়ে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন। তিনি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছিলেন মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর ‘শান্তির আগুনে’ কিভাবে সংখ্যালঘু জনপদ ধ্বংস হয়ে যায়, চেহারা পাল্টে যায়, নারীরা নির্মমভাবে ধর্ষিত হয়। এসবই বন্ধ করতে তাকে হামলা। নয় কি? বর্তমান ‘দেশপ্রেমিক’ সরকার কি সেসব ভুলে গেছেন? না গিয়ে থাকলে সভ্যতা, মানবতাবিরোধী ওই বর্বরোচিত ঘটনার বিচার করা আপনাদের আখেরের জন্যই প্রয়োজন।

আর যারা আজাদের মৃত্যুর খবরে উল্লাস করে নারী নিয়ে নেচেছে তারা যেন ভুলে না যায় প্রথাবিরোধী মশালের আগুন কখনওই নিভে যায় না। তুরকি কবি নাজিম হিকমতের ‘বিংশ শতাব্দীতে শোকের আয়ু হবে মাত্র এক বছর’-কে অন্ধকারে রেখে আজাদের প্রকৃত পাঠক তাকে স্মরণে রাখবে জীবনের প্রতিটি প্রয়োজনে। কারণ আজদদের মৃত্যুই যে নেই।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন