মাতাল তরণী

সাম্য রাইয়ান

বেশ কিছুদিন ধরে একটা ব্যাপার ল্য করছি যে, এদেশে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে তারাই যারা অথর্ব-অশিতি-ভিুক-চাকুরী সন্ধানী বেকার! কোন বেকার যুবক, যার কর্মের ব্যবস্থা হচ্ছে না কিন্তু একটা কাজ খুব দরকার; এমন অসহায় মহিলা যার হয়ত’ বিয়ে হচ্ছে না, আর্থিক টানাপোড়েন চলছে; এমন অথর্বরাই ‘জনপ্রতিনিধি’ হিসেবে নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন। সেদিন (অক্টোবর ২০১১) কুড়িগ্রামে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দপ্তর সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন এক অন্ধ ব্যক্তি; যিনি নিজের অসহায়ত্বের কথা প্রচার করে ভোট চাইছেন, নির্বাচনী পোস্টারে আবার গর্ব করে লিখেছেন “প্রতিবন্ধী”-কে ভোট দিন! কি হাস্যকর ব্যাপার।

রাজারহাটের ছিনাই ইউপি নির্বাচনে মেম্বার পদে প্রনিন্দ্বীতা করেছিলেন লাদেন নামের এক ভিক্ষুক! সে অবশ্য হেরেছিল। কিন্তু কথা সেটা না। ঐ অঞ্চলের জনগনের প্রতিনিধিত্ব করবে একজন ভিক্ষুক; ভিক্ষার যন্ত্রণা থেকে লাদেনকে বাঁচাতেই এলাকাবাসী এই মহত উদ্যোগ গ্রহন করে। পত্রিকা আবার আহাদে গদগদ হয়ে এইসব নোংরামীর রিপোর্ট হাজির করে। এইসব খবর প্রচারিত হবার পর ঐ এলাকাবাসীর লজ্জিক হবার কথা ছিল; কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় তারা খুশি হয়েছেন! কি এক মহান কাজ তারা করে ফেলেছেন; টুপি-দাঁড়িঅলা লাদেন ভিক্ষুককে প্রার্থী বানিয়ে তারা এমন কাজ করেছেন যে বেহেস্তের টিকিট কনফার্ম হয়েছে। ঐ এলাকাবাসী ঘোষণা দিয়েছেন, একবার হেরেছে তো কি হয়েছে? তারা আবার তাকে নির্বাচনের প্রার্থী করবেন!

কি আর করবেন? লজ্জিত হলে বেশি বেশি বি.টি.ভি দেখুন

লজ্জা হওয়া উচিত। মানুষজন এখনো জনপ্রতিনিধি ব্যাপারটাই বুঝল না! আর এখন আলোচনার বিষয় হল ভোটগ্রহন পদ্ধতি: ডিজিটাল নাকি এনালগ! বাঙলাদেশে এখনো যেখানে অল্পকিছু হাতেগোনা মানুষ শিতি (বাকিসব ভড়ঙ); যে দেশে এখনো পূর্ণাঙ্গ-প্রগতিশীল শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন সম্ভব হল না; সেদেশে এরকম অথর্ব-অশিতি-লম্পট-সাইকেলচোর-দুর্নীতিবাজ লোকেরাই জনপ্রতিনিধি হিসেবে আসন গ্রহন করবে এটাই স্বাভাবিক। যতদিন না একটি পূর্ণাঙ্গ-প্রগতিশীল শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন সম্ভব, ততদিন পর্যন্ত জনগনকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো যাবে না। জনগনকে শিতি করবেন কারা? নিশ্চয় শিক। কিন্তু যে শিকদের দিকে আমরা তাকিয়ে আছি তারা হয় জঙ্গি দলের সদস্য, নাহয় জাল সার্টিফিকেট দিয়ে ঘুষ-টুষ দিয়ে চাকুরী নিয়েছে; আর শিতি শিকের সংখ্যা এতোই কম যে অনুপাত হয়ত দাঁড়ায় ৫ঃ১! ফলে এই-ই হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন