অতীতের ভূল গণনার মীমাংসা করে অনেক তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে শেষমেষ বোঝা গেল বিন্দুর বয়স পূর্ণছয়!


এখনো বিষের ফেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয়নি, তুমি কথা বলো



সাম্য রাইয়ান

ভাবতে অবাক লাগে, প্রকাশনার সপ্তম বর্ষে পদার্পণ করলো বিন্দু। ১৪১২-এ যখন প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়, তখন এতোসব চিন্তা ছিল না- শিল্প-প্রতিশিল্প- প্রতিষ্ঠানবিরোধীতা- লিটলম্যাগাজিন- কিচ্ছু না; শুধু একটাই চিন্তা- আমাদের লেখা প্রকাশের কোন জায়গা নেই- কুড়িগ্রাম থেকে কোন সাহিত্যপত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে না- অতএব- আমাদেরই করতে হবে- ক্ষুদ্র উদ্যোগ- বিন্দু। এই চিন্তা থেকেই মূলত প্রকাশিত হয় প্রথম সংখ্যা। অনেক আজেবাজে লেখা, অশিতি- বোকাচোদা লেখক, গু-গবর ছেপে-টেপে ক্রমান্বয়ে ১১ টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে গত ছয় বছরে। এর মধ্যে আমরা বিবর্তিত হয়েছি- বিকশিত হয়েছি; যুক্ত হয়েছেন নতুন ভাবুকেরা- পরিত্যক্ত হয়েছে অশিতি-মূর্খরা।

পরিবর্তনের প্রথম ছাপ পাওয়া যায় শ্রাবণ ১৪১৬-এ প্রকাশিত দশম সংখ্যায়। যা প্রকাশের পর হৈ-চৈ শুরু হয়ে যায় মোল্লামহলে। সাহিত্যগুন্ডারা আক্রমণাতœক হয়ে ওঠে। এরপর ধকল সামলে উঠতে সময় লাগে। বৈশাখ ১৪১৮-এ প্রকাশিত হয় গুরুত্বপূর্ণ এগারতম সংখ্যা; যা এখন পর্যন্ত সর্বশেষ- বারতম সংখ্যা প্রকাশের কাজ শেষের পথে। বিবর্তিত চিন্তার একটি প্রচ্ছদবার্তা নিয়ে হাজির হয় এই সংখ্যাটি: এবং ওরা শিল্প-সাহিত্য নিয়ে ব্যবসা করে, পণ্য করে, ন্যাংটা করে, রক্তাক্ত করে, ট্রাকে তুলে আলু-পটলের মতো রপ্তানি করে; গুটিকতক অর্টিস্টিক শিল্পিকে আলু-পটলের ছাল খাইয়ে ভিখিরির মতো বাঁচিয়ে রেখে নিজেদের স্বার্থে মুনাফা উপার্জন করেই যায়; ইহাই প্রচলিত-পুরনো প্রতিষ্ঠান, এই কাজ এরা অতীতেও করেছে- ভবিষ্যতেও...? না

এদের প্রথম ল্য মুনাফা, দ্বিতীয় ল্য মুনাফা, এমনকি তৃতীয় ল্যও মুনাফা। এরা শিল্প-সাহিত্যের বিচার করে মুনাফার অঙ্কে। মূলত এরা শিল্প ব্যাপারটাই বোঝে না; ভালো শিল্প নির্বাচন এদের কাছে কমোডের কালার চয়েসের মতো ব্যাপার।

তাই অনিবার্যভাবেই শিল্পি এদের কাছে হাস্যকর বস্তুতে পরিণত হয়, শেষপর্যন্ত

দুর্ভাগ্যক্রমে (একদম অজান্তেই; আমাদের কম বোঝার কারণে) এ সংখ্যায়ও দু-একজন ভন্ড ঢুকে পড়ে লেখকতালিকায়!

আধুনিক প্রচারমাধ্যমগুলো অসংখ্য শুয়োরবৎসকে মহামানবরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছে

আর এমন সময় বিন্দু হাজির করেছে এ সময়ের প্রতিভাবানদের। ফলে বিরাগভাজন হতে হয়েছে সুযোগসন্ধানীদের। গ্রাম্যসমাজকাঠামোর মতাস্তরে কোন সময়ই যখন বিন্দু আপোষ করেনি, তখন নেমে এসেছে সাহিত্যমোল্লাদের খড়গকৃপাণ। শুধুমাত্র প্রচার-প্রপাগান্ডার মধ্য দিয়েই যখন ভন্ডরা জনগনের সামনে হাজির হচ্ছে মহামানবরূপে, তখন বিন্দু হাজির করেছে শুভ্র সরখেল, রাশেদুন্নবী সবুজ, আরণ্যক টিটো, নেয়ামুল ইসলাম, নুরে আলম দুর্জয়, তারিফ উল হক, ম হাসান এর মতো প্রতিভাবানদের।

শৃঙ্খলপ্রিয় সিংহের থেকে স্বাধীন গাধা উত্তম

১০ সংখ্যার বিন্দুস্বর থেকেই জানা যাবে স্বাধীনতা প্রশ্নে বিন্দুর অবস্থান: আমাদের কোন ঈশ্বর নেই, তাই সীমাবদ্ধতাও নেই। আমরা যে কোন সময় পরীামূলকভাবে গন্ধম ফল (জ্ঞানবৃরে ফল; আদম-হাওয়া যখন তাহা ভণ করিল তখন তাহাদের জ্ঞান হইল) খেয়ে দেখতে পারি। সাহিত্যের ছোটকাগজ হিসেবে প্রয়োজনমতো আমরা নিতে চাই অবাধ স্বাধীনতা এবং যে কোন পাঠকের যে কোন মত প্রকাশের জন্যও দিতে চাই অবাধ স্বাধীনতা (যেহেতু আমরা বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী)।

রূপসীর একটু নগ্ন বাহু দেখে ওরা হৈ-চৈ করে, কিন্তু পথে পথে ভিখারিনির উলঙ্গ দেহ দেখে ওরা একটুও বিচলিত হয় না

বিন্দুর বিরুদ্ধে অশ্লীলতার অভিযোগ উঠেছে বহুবার। যারা এই অভিযোগ করেছে সেইসব অশিতি মানুষদের কোনভাবেই বোঝানো সম্ভব হয়নি শ্লীল-অশ্লীলের পার্থক্য! আর লোকেতো জানেই, গরীবের সংস্কৃতি থাকতে পারে এটাতো ধনীরা মানতেই চায় না। এবং গরীবের জীবন-যাপনের পরতে পরতে অশ্লীলতা-নোংরামি খুঁজে পায় ধনীরা। বাক্যটিকে আর একটু বিকশিত করে বললে এভাবে বলতে হয়, মানুষের জীবন যাপনই যেহেতু সংস্কৃতি তাই প্রত্যেকের সংস্কৃতি কেমন হবে তা নির্ভর করে তার শ্রেণি-অবস্থান এর ওপর; আর প্রত্যেক শেণির সংস্কৃতিই তো আলাদা। কিন্তু বুর্জোয়ারা প্রলেতারিয়েতের সংস্কৃতিকে সংস্কৃতি বলে মানতেই নারাজ; কেননা তা তাদের কাছে অশ্লীলতা-কুরূচিপূর্ণ-অভদ্রতা- নোংরামি-বেয়াদবি আরো কতো কী!

যারা বিন্দু করতে জানে তারা সিন্ধুও গড়তে জানে। আর যারা বিন্দুই করতে জানে না- ঈশ্বরের দিকে তাকিয়ে কামনা করা ছাড়া তাদের আর কিছুই করার নেই

গত ছয় বছরে বিন্দুর এগারটি সংখ্যা ছাড়াও প্রকাশিত হয়েছে ১৬ ডিসেম্বর ও ১৪ ডিসেম্বর শিরোনামে দুটি বুলেটিন। বিন্দু এককভাবে আয়োজন করেছে কবি জীবনানন্দ দাশ স্মরণসভা, সব্যসাচী লেখক হুমায়ুন আজাদ স্মরণসভা, কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ স্মরণসভা, বর্ষপূর্তি উপল্েয কবিতাপাঠ-আলোচনা সভা।

এছাড়াও বিন্দু, বাঙময়, শ্বেতপত্র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় ‘শূন্যের কবিতা পাঠ’। শুধু তাই নয়, গত ২২ অক্টোবর ২০১১-এ কুড়িগ্রাম প্রেসকাবে বিন্দু, শ্বেতপত্র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় ‘খসড়া সম্প্রচার নীতিমালা-২০১১ এবং গণতান্ত্রিক বাঙলাদেশ নির্মাণের প্রশ্ন’ শীর্ষক আলোচনা সভা।


পাঠক, জানা আছে তো-

প্রাক্তন বিদ্রোহীদের কবরে যখন

স্মৃতিসৌধ মাথা তোলে, নতুন বিদ্রোহীরা

তখন কারাগারে ঢোকে ফাঁসিকাঠে ঝোলে।



কৃতজ্ঞতা: হুমায়ুন আজাদ

উৰসর্গ: রাশেদুন্নবী সবুজ_ এখনো অনেক পথ বাকি- শক্ত করে হাল ধরো হে-

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন