মেঘদূত শ্লোক ০০১ -০০৪ (পূর্ব মেঘ)


কালিদাস


বধূ-প্রেমমধুমত্ত যক্ষ হেলা করি নিজ কাজে,
কুবেরের শাপে বর্ষ যাপে সে নির্বাসনের মাঝে।
প্রিয়ার বিরহে ব্যাথাতুর প্রাণ, হয়েছে মহিমা হারা,
জনকতনয়া স্নানে যে তটিনী বহিছে পূণ্য ধারা
তরু ছায়া ঘেরা স্নিগ্ধ সে তটে – রামগির আশ্রমে
রহিয়া একাকী, বিচ্ছেদ-তাপদুঃসহ তার ক্রমে।


সেই গিরিবনে ফেরে আনমনে, প্রিয়া নাহি সাথে হায়,
অভাগা যক্ষবিরহ-ব্যাকুল উদাস নয়নে চায়।
খসেছে স্বর্ণবলয়* শীর্ণ প্রকোষ্ঠ হ’তে ধীরে,
নব আষাঢ়ের প্রথম দিবসে, শৈল সানুটি ঘিরে
হেরে প্রমত্ত মাতঙ্গসম অতিকায় কালো মেঘে
মাতিয়া উঠেছে বপ্র-ক্রীড়ায় অধীর উতল বেগে!


ক্ষণেক তাকায়ে সেই মেঘপানে যক্ষ ভাবিছে মনে,
কে না চাহে হেন জলদ-মেলায় মিলিতে প্রিয়ার সনে?
কার অন্তর হেন জলধার না-করে উতল বলো,
কন্ঠ জড়ায়ে আছে প্রিয়া যার সেজনও যে চঞ্চল!
কান্তা যাহার বহুদূরে আজ, সে প্রবাসী কিসে হায়,
বিরহ-কাতর চিত্তে তাহার সান্ত্বনা কিছু পায়?


আসিছে বরষা, হেরি মেঘদলে জাগে শুধু তার মনে,
আমারে ছাড়িয়া কেমনে সে প্রিয়া বাঁচিবে প্রাবৃট্‌ ক্ষণে
সহসা কেমন মনে হল তার – বাঁচাইতে পারা যায়,
যদি কোন মতে মেঘের মুখে সে আমার বারতা পায়!
এত ভাবি ত্বরা কুটজ কুসুমে অর্ঘ রচিয়া আনি
মধুর বচনে স্তুতি করি মেঘে কহিছে জুড়িয়া পাণি ।


মুল শ্লোক

কশ্চিত্ কান্তাবিরহগুরুণা স্বাধিকারাত্প্রমত্তঃ
শাপেনাস্তঙ্গমিতমহিমা বর্ষভোগ্যেণ ভর্তুঃ
যক্ষশ্চক্রে জনকতনযাস্নানপুণ্যোদকেষু
স্নিগ্ধচ্ছাযাতরুষু বসতিং রামগির্যাশ্রমেষু


তস্মিন্নদ্রৌ কতিচিদবলাবিপ্রযুক্তঃ স কামী
নীত্বা মাসান্ কনকবলযভ্রংশরিক্তপ্রকোষ্ঠঃ
আষাঢস্য প্র(শ)থমদিবসে মেঘমাশ্লিষ্টসানুং
বপ্রক্রীডাপরিণতগজপ্রেক্ষণীযং দদর্শ


তস্য স্থিত্বা কথমপি পুরঃ কৌতুকাধানহেতোঃ
অন্তর্বাষ্পশ্চিরমনুচরো রাজরাজস্য দধ্যৌ
মেঘালোকে ভবতি সুখিনোঽপ্যন্যথাবৃত্তি চেতঃ
কণ্ঠাশ্লেষপ্রণযিনি জনে কিং পুনর্দূরসংস্থে


প্রত্যাসন্নে নভসি দযিতাজীবিতালম্বনার্থী
জীমূতেন স্বকুশলমযীং হরযিষ্যন্ প্রবৃত্তিম্
স প্রত্যগ্রৈঃ কুটজকুসুমৈঃ কল্পিতার্ঘায তস্মৈ
প্রীতঃ প্রীতিপ্রমুখবচনং স্বাগতং ব্যাজহার

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন